কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদ ও উপদেষ্টা পরিষদের যৌথ সভায় এডভোকেট সাহারা খাতুন

আওয়ামী লীগকে একেবারে তৃণমূল পর্যায় থেকে ঢেলে সাজানো হবে। সাংগঠনিকভাবে দলকে আরও মজবুত করে গড়ে তোলা হবে ” 

 

গতকাল শুক্রবার (১৯ এপ্রিল, ২০১৯ ইং) বিকালে বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউতে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে উপদেষ্টা পরিষদ ও কেন্দ্রীয় নির্বাহী সংসদের যৌথসভা অনুষ্ঠিত হয়। উক্ত সভাটির সূচনা বক্তব্যে আওয়ামী লীগ সভাপতি ও মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা উপরোক্ত তথ্য জানান।

 

তিনি আরও বলেন – আগামী বছর থেকে মুজিববর্ষ  উদযাপনে জাতীয় ও দলীয়ভাবে ব্যাপক কর্মসূচি নেওয়া হবে। উপদেষ্টা পরিষদ ও কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদের সদস্যরা একসঙ্গে বসেছি। পাশাপাশি আরও একটি কাজ করতে চাই। আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি, উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য, প্রেসিডিয়াম সদস্য ও কার্যকরী সংসদের সমন্বয়ে আট বিভাগে আটটি কমিটি গঠন করেছি। এই কমিটির দায়িত্ব থাকবে সংগঠনকে একেবারে তৃণমূল পর্যায় থেকে ঢেলে সাজানো। কোথায় কমিটি আছে না আছে, সেগুলো পর্যালোচনা করে সাংগঠনিকভাবে আওয়ামী লীগকে মজবুত করে গড়ে তোলার দায়িত্বে থাকবে ‘সাংগঠনিক কমিটি’।

 

মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আরও যোগ করেন, ‘রাষ্ট্র পরিচালনায় গেলে অনেক সময় সরকারের জনপ্রিয়তা কমে যায়। সরকার ধীরে ধীরে মানুষের কাছ থেকে হারিয়ে যায়। কিন্তু আল্লাহর রহমতে আমরা ক্ষমতায় আসার পর থেকে জনগণের আস্থা-বিশ্বাস অর্জন করেছি।’

 

ঐতিহাসিক মুজিবনগর সরকার গঠনের প্রেক্ষাপট তুলে ধরে শেখ হাসিনা বলেন, ‘একটা যুদ্ধবিধস্ত স্বাধীন দেশকে গড়ে তুলে অর্থনৈতিক উন্নয়নের পথে এগিয়ে নিতে যখন জাতির পিতা যাত্রা শুরু করেন, ঠিক সেই ১৫ আগস্টের ঘটনা ঘটে এবং জাতির পিতাকে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়। এরপর ২৯টি বছর। প্রথমে ২১ বছর, এরপর আবার ৭ বছর। এই জাতির জীবনে অন্ধকার নেমে আসে। কাঙ্ক্ষিত কোনো অগ্রগতি দেশের মানুষের জীবনে হয়নি। কেবলমাত্র আওয়ামী লীগ যখন সরকার গঠন করেছে, তখনই দেশের মানুষের ভাগ্য পরিবর্তন হতে শুরু করেছে।’

 

সভাটির বক্তব্যে আওয়ামী লীগ সভাপতি বলেন, ‘বাংলাদেশ আজকে ক্ষুধামুক্ত দেশ, দারিদ্র্যমুক্ত হওয়ার পথে। প্রায় ৪০ ভাগ থেকে ২১ ভাগে দারিদ্র্যের হার নামিয়ে এনেছি। উন্নয়নের ছোঁয়া গ্রাম পর্যায় পর্যন্ত হয়েছে। আজকে গ্রামের মানুষ দারিদ্র্যমুক্ত হচ্ছে এবং তাদের আর্থিক স্বচ্ছলতা বাড়ছে। যেটা জাতির পিতার স্বপ্ন ছিল।’ তিনি আরও বলেন, ‘এবারে যে নির্বাচন হয়ে গেল, সেই নির্বাচনের দিকে তাকান আপনারা দেখবেন, সব শ্রেণি-পেশার মানুষ আওয়ামী লীগকে সমর্থন করেছে। যা অতীতে কখনও দেখা যায়নি।’

 

‘অপরদিকে আমরা যদি দেখি বিএনপি-জামায়াতের অবস্থা। মিলিটারি ডিটেকটর অবৈধ ক্ষমতা দখল করে ক্ষমতায় গিয়ে এ সব দল গঠন করেছে। ৩০০ আসনে তারা ৬৯২ বা ৬৯৪টার মতো নমিনেশন দিয়েছে। তারা মনে করেছিল, একটা যেন ব্যবসা। সিট বিক্রি করে কিছু পয়সা কামাই করে নিলেও ইলেকশনের দিকে তাকে খুব একটা নজর ছিল না’ বলেন জননেত্রী শেখ হাসিনা।

 

আওয়ামী লীগ কার্যালয়ে আয়োজিত উক্ত যৌথ সভাটির সভাপতিত্ব করেন আওয়ামী লীগ সভাপতি জননেত্রী শেখ হাসিনা এবং সভা পরিচালনার দায়িত্বে ছিলেন ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক জনাব মাহবুবউল আলম হানিফ।

 

সভায় আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদ সদস্যদের মধ্যে আমির হোসেন আমু, তোফায়েল আহমেদ। সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য মোহাম্মদ নাসিম, বেগম মতিয়া চৌধুরী, জনাবা এডভোকেট সাহারা খাতুন, পীযূষ কান্তি ভট্টাচার্য্য, ড. আব্দুর রাজ্জাক, লে. কর্নেল (অব.) মুহাম্মদ ফারুক খান, রমেশ চন্দ্র সেন। দলের কেন্দ্রিয় যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ডা. দীপু মনি জাহাঙ্গীর কবির নানক, আব্দুর রহমান; সাংগঠনিক সম্পাদক বি এম মোজাম্মেল হক, আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, খালিদ মাহমুদ চৌধুরী, আবু সাঈদ আল মাহমুদ স্বপন, এ কে এম এনামুল হক শামীম, মহিবুল হাসান চৌধুরী (নওফেল); প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক হাছান মাহমুদ, সংস্কৃতি বিষয়ক সম্পাদক অসীম কুমার উকিল; ত্রাণ ও সমাজকল্যাণ সম্পাদক সুজিত রায় নন্দী; বন ও পরিবেশ বিষয়ক সম্পাদক দেলোয়ার হোসেন; আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক শাম্মী আহম্মেদ; দপ্তর সম্পাদক আবদুস সোবহান গোলাপ; উপ দপ্তর সম্পাদক ব্যারিস্টার বিপ্লব বড়ুয়া; কার্যনির্বাহী সদস্য মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া, এইচ এম খায়রুজ্জামান লিটন, এস এম কামাল হোসেন, আমিরুল আলম মিলন, মির্জা আজম, এ বি এম রিয়াজুল কবীর কাওছার, ইকবাল হোসেন অপু, আনোয়ার হোসেন, মারফা আক্তার পপি, প্রমূখ উপস্থিত ছিলেন।

মুজিব বর্ষ উদযাপনে কর্মসূচী নেওয়ার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর.. 

 

আগামী ২০২০-২১ সালকে মুজিব বর্ষ হিসেবে জাঁকজমকপূর্ণভাবে উদযাপন করতে কর্মপরিকল্পনা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরতে জাতীয় কমিটির পাশাপাশি দেশের সর্বস্তরে দলীয় কমিটি গঠন করার নির্দেশনাও দিয়েছেন তিনি।

 

গতকাল শুক্রবার (১৯ এপ্রিল, ২০১৯ ইং) বিকালে রাজধানীর বঙ্গবন্ধু এভিনিউ আওয়ামী লীগ কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে উপদেষ্টা পরিষদ সদস্য ও কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদের যৌথসভায় প্রধানমন্ত্রী এমন আহ্বান করেন বলে জানা গেছে।

 

এর আগে গত শুক্রবার (৫ এপ্রিল, ২০১৯ ইং) বিকালে গণভবনে কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। সেখানেও মুজিববর্ষ উদযাপনে বিভিন্ন পরিকল্পনা ও কর্মসূচি গ্রহণ নিয়ে আলোচনা হয়। এরপর ১২ এপ্রিল শুক্রবার গণভবনে আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের এক বৈঠক হয়। ওই বৈঠকে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ওপর লিখিত উপদেষ্টা পরিষদের সদস্যদের প্রতি আহ্বান জানান আওয়ামী লীগ সভাপতি। পাশাপাশি বাংলাদেশি দূতাবাসগুলোতে ‘মুজিববর্ষ’ পালনে কি কি কর্মসূচি নেওয়া যায় সে বিষয়েও পরামর্শ চান। ওই দুই বৈঠকের ফলোআপ হিসেবে শুক্রবার (১৯ এপ্রিল) যৌথসভায় ‘মুজিববর্ষ’ উদযাপনে বিভিন্ন কর্মসূচি ও পরিকল্পনা নিতে পরামর্শমূলক বক্তব্য দেন শেখ হাসিনা।

 

সূত্রে প্রকাশ, সভায় নেত্রী ‘মুজিববর্ষে সারাবছর জাঁকজমকপূর্ণ কর্মসূচি উদযাপন করার নির্দেশনা দেন। দেশি ও বিদেশি কবি, সাহিত্যিক ও রাজনীতিবিদ, কূটনৈতিকদের কাছ থেকে লেখা আহ্বানের নির্দেশ দেন। আন্তর্জাতিকভাবে বঙ্গবন্ধুকে তুলে ধরতে বাংলাদেশের দূতাবাসগুলোও বছরব্যাপী বিভিন্ন কর্মসূচি নিয়ে মুজিববর্ষ পালন করবে। এরইমধ্যে জাতীয় উদযাপন কমিটি ও বাস্তবায়ন কমিটিসহ কিছু উপ কমিটি গঠন করা হয়েছে। সামনে আরও কিছু উপ কমিটি গঠন করা হবে। কিন্তু সরকারি কর্মসূচির পাশাপাশি সারাদেশের প্রতিটি জায়গায় দলীয়ভাবে কমিটি গঠন করতে হবে।

 

প্রসঙ্গত, ২০২০-২০২১ সালকে ‘মুজিববর্ষ’ হিসেবে পালনের ঘোষণা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ২০২০ সালের ১৭ মার্চ থেকে ২০২১ সালের ২৬ মার্চ স্বাধীনতা দিবস পর্যন্ত মুজিববর্ষ পালিত হবে। এরইমধ্যে ২০২০ সালে স্বাধীনতার জন্মশতবার্ষিকী এবং ২০২১ সালে স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উদযাপনে জাতীয়ভাবে দু’টি কমিটি গঠন করা হয়েছে।

 

সূত্রে আরও প্রকাশ, ‘নেত্রী, মুজিববর্ষকে ঘিরে বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকী ও স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উদযাপনে সরকারি কমিটির পাশাপাশি দলীয়ভাবে দেশের সব জায়গায় কমিটি গঠন করার নির্দেশনা দিয়েছেন। তিনি দলীয়ভাবে মুজিববর্ষ পালনে দেশের সকল জায়গায় প্রস্তুতি রাখার নির্দেশনা দিয়েছেন। যাতে বছরব্যাপী ব্যাপক জাঁকজমভাবে উদযাপিত হয়। তিনি বঙ্গবন্ধুর জীবন-সংগ্রাম, স্বাধীনতা-সংগ্রামে তার ভূমিকা, বাকশাল সম্পর্কে তার যে সিদ্ধান্ত, সর্বোপরি জাতির পিতার পুরো জীবনে যত রাজনৈতিক কর্মকান্ড আছে সেসব কর্মকান্ডকে জাতি এবং এই জেনারেশনের সামনে তুলে ধরার নির্দেশনা দিয়েছেন।

 

এ লক্ষ্যে বিশ্বের খ্যাতিসম্পন্ন যত রাষ্ট্রপ্রধান আছে, যারা আমাদের মুক্তিযুদ্ধের সময় সমর্থন করেছে, তাদেরকে দাওয়াত দেওয়া হবে। আন্তর্জাতিকভাবে প্রীতি ফুটবল ম্যাচ ও প্রীতি ক্রিকেট ম্যাচসহ আরও কিছু নির্দেশনা দিয়েছেন। জানান নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক নেতারা।

 

আজ শনিবার (২০ এপ্রিল, ২০১৯ ইং) ধানমন্ডি ৩/এ আওয়ামী লীগ সভাপতির রাজনৈতিক কার্যালয়ে সম্পাদকমন্ডলীর সভা অনুষ্ঠিত হবে। ওই মিটিং এজেন্ডায় সাংগঠনিক আলোচনা থাকবে বলে জানা গেছে।

 

সূত্র: সারাবাংলা।