আমার সম্পর্কে


★ মুজিব আদর্শের একজন নির্ভীক সৈনিক:


বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের প্রেসিডিয়ামের অন্যতম সদস্য ও সাবেক স্বরাষ্ট্র, ডাক ও টেলি যোগাযোগ মন্ত্রী এডভোকেট সাহারা খাতুন এমপি একজন সফল রাজনৈতিক সংগঠক, মুজিব আদর্শের একজন নির্ভীক সৈনিক ও নিবেদিত প্রাণ আওয়ামী লীগ নেত্রী।

 

১৯৭১ সনে ঐতিহাসিক ৭ মার্চের ভাষনের দিন এডভোকেট সাহারা খাতুন এমপি আওয়ামী লীগের মহিলা শাখার অনেক মহিলা নেতাকর্মীদেরকে নিয়ে সোহরাওয়ার্দ্দী উদ্যানের জনসভায় যোগ দিয়েছিলেন। তিনি সহ মহিলা কর্মীরা সে দিন মঞ্চের সামনে খুব কাছাকাছি বসেছিলেন।

 

২৫ মার্চ বিকালে শেরেবাংলা নগরে ঐ এলাকার নেত্রী হাজেরা খান এবং গোলে আরা বেগম সহ তাঁদের নেতৃত্বে এক মহিলা সমাবেশ ডাকা হয়। সেই সমাবেশে সৈয়দা সাজেদা চৌধুরী, প্রয়াত রাষ্ট্রপতি মোঃ জিল্লুর রহমানের স্ত্রী মহিলানেত্রী মরহুমা আই.ভি রহমান ও এডভোকেট সাহারা খাতুন এমপি বক্তব্য রাখেন। এডভোকেট সাহারা খাতুন এমপি মহিলাদের উদ্দেশ্যে সে দিন বলেন যতটুকু তাঁর স্মরণ পড়ে তা হলো বঙ্গবন্ধু যেই উদ্দেশ্যে “আমাদের মহিলা সংগঠন গড়ে তুলেছেন, মহিলারা জনগোষ্ঠীর অর্ধেক, আমরা মহিলা, আমাদের হাতে তো বন্ধুক নেই, রাইফেল নেই, কাজেই আমরা অন্ততঃ মরার আগে পাকের ঘরের দা-বটি দিয়ে শত্রুর মোকাবেলা করবো”।

 

বঙ্গবন্ধুর সাথে সৈয়দা সাজেদা চৌধুরী পাকিস্তান আমলেই এডভোকেট সাহারা খাতুনকে পরিচয় করিয়ে দিয়েছিলেন। তারপর থেকে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু তাঁকে ব্যক্তিগত ভাবে চিনতেন, বঙ্গবন্ধু স্বাধীনতার পর অনেক লোকের মধ্যেও জিজ্ঞাসা করতেন সাহারা কেমন আছ? কেমন কাজ চলছে?

 

১৯৭৫ সনের ১৫ আগস্ট জাতির জনকের স্বপরিবারে ইতিহাসের নৃশংসতম হত্যাকান্ডের বিষয় সকাল ৭ টার দিকে শুনতে পান এডভোকেট সাহারা খাতুন। শুনে সে দিন চিৎকার দিয়ে কেঁদে ওঠেছিলেন। তখন তিনি দৌড় দিয়ে সৈয়দা সাজেদা চৌধুরীর ইন্দিরা রোডের মরিচা হাউজে গিয়েছিলেন নির্দেশনার জন্য।

 

এডভোকেট সাহারা খাতুন প্রথমে নগর আওয়ামী লীগের মহিলা সম্পাদিকা নির্বাচিত হন। পরবর্তীতে মহিলা আওয়ামী লীগের দপ্তর সম্পাদক, পরবর্তীতে সাধারণ সম্পাদিকা এবং একই সাথে নগর আওযামী লীগের সহ-সভাপতি নির্বাচিত হয়েছিলেন। এরপর তিনি বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কমিটিতে সহ-আইন সম্পাদিকা,পরে তিনি আইন সম্পাদিকা নির্বাচিত হন, তখন তিনি নগর আওয়ামীলীগের সহ-সভাপতি পদ এবং মহিলা আওযামী লীগের সাধারণ সম্পদকের পদ আর গ্রহণ করেননি। অতঃপর পরবর্তী কাউন্সিলে তিনি বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কমিটিতে প্রেসিডিয়াম সদস্য নির্বাচিত হন । এখনো তিনি আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য হিসেবে বিদ্যমান আছেন।

 

এডভোকেট সাহারা খাতুন ১৯৮১ সন থেকে আইনপেশা শুরু করেন। তিনি আইনজীবীদেরকে বঙ্গবন্ধুর আদর্শে উদ্বুদ্ধ করে সংগঠিত করা শুরু করেন। জননেত্রী মাননীয় প্রধান মন্ত্রী শেখ হাসিনা ১৯৮১ সনে দেশে ফিরে আসেন। তখন তিনি দেখেন যে আইনজীবীদের মধ্যে সকল রাজনৈতিক দলের অঙ্গ সংগঠন গড়ে তুলেছেন। তখন তিনি মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সাথে পরামর্শ করে তিনি সহ কয়েকজন আইনজীবী নেতা মিলে তাঁকে আহব্বায়ক করে বাংলাদেশ আওয়ামী আইনজীবী পরিষদ গঠন করেন।

 

এডভোকেট সাহারা খাতুন ১৯৯১ সনের সংসদ নির্বাচনে তৎকালীন ঢাকা-৫ আসন থেকে মনোনয়ন পেয়ে বি.এন.পি নেত্রী খালেদা জিয়ার সাথে প্রতিদ্বন্দিতা করেছিলেন কিন্তু ভোট কারচুপি করে তাঁকে হারিয়ে দেওয়া হয়। পরে একই আসনে খালেদা জিয়া সিট ছেড়ে দিলে শূন্য আসনের উপ-নির্বাচনেও তাঁকে মনোনয়ন দেওয়া হয়। তখনো বি.এন.পি ক্ষমতায় থেকে ভোট কারচুপি করে তাঁকে হারিয়ে দেওয়া হয়।

 

১৯৯৬ ও ২০০১ সনে তাঁকে দলীয় মনোনয়ন দেওয়া হয়নি। এর পর তিনি ২০০৮ সনের ২৯ ডিসেম্বরের সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-১৮ আসন থেকে মনোনয়ন পেয়ে বিপুল ভোটে জয় লাভ করে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। আওয়ামী লীগ তথা ১৪ দলীয় জোট ক্ষমতায় আসে।

 

তাঁকে ৬ জানুয়ারী ২০০৯ সনে চ্যালেঞ্জিং মন্ত্রণালয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর দায়িত্ব দেওয়া হয়। বাংলাদেশের ইতিহাসে যুক্ত হলো প্রথম মহিলা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। সফলতার সাথে তিনি নির্ভিকভাবে দায়িত্ব পালন করেন। পরে পৌনে চার বছরের মাথায় তাঁকে ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেওয়া হয়। তিনি পুনরায় ঢাকা-১৮ আসন থেকে ২০১৪ সনের ৫ জানুয়ারীতে পুনরায় সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন।

 

২০০১ সনে বি.এন.পি-জামায়াত জোট ক্ষমতায় আসলে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের নামে অনেক মিথ্যা হয়রানীমূলক মামলা দিতে থাকে। তিনি তখন আইনজীবীদের নিয়ে বিনা পারিশ্রমিকে অধিকাংশ নেতাকর্মীর মামলা পরিচালনা করেন। আহত কর্মীদের হাসপাতালে এবং বাসায় দেখতে যেতেন। বিশেষ করে মহিলা কর্মীদেরকে থানায় গ্রেফতার করে নিয়ে গেলে তাদেরকে যাতে নির্যাতন করা না হয় সেই জন্য আইনজীবীদের নিয়ে থানায় যেতেন। পরিবারকে সান্তনা দেওয়ার জন্য বাসায় ছুটে যেতেন। নেতা-কর্মীদের মামলা করার জন্য তিনি, এডভোকেট সৈয়দ রেজাউর রহমান ও এডভোকেট আবদুল্লাহ আবু সহ ময়মনসিংহ ও নড়াইলেও গিয়েছিলেন।

 

২০০৭ সনের ওয়ান-ইলেভেনের সময় মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে দায়ের করা ষড়যন্ত্রমূলক মিথ্যা মামলাগুলি ব্যারিস্টার শফিক আহমেদ, এডভোকেট সৈয়দ রেজাউর রহমান, এডভোকেট ইউসুফ হোসেন হুমায়ুন, ব্যারিস্টার ফজলে নূর তাপস, এডভোকেট মোঃ আবদুল্লাহ আবু, এডভোকেট মোঃ কামরুল ইসলাম, এডভোকেট আবদুর রহমান হাওলাদার, এডভোকেট মোঃ মোখলেছুর রহমান বাদল সহ অনেককে নিয়ে করেছেন। অন্যান্য নেতাকর্মীদের মামলাগুলিও দেখতেন। তখন অনেকে জননেত্রী শেখ হাসিনার মামলাসহ নেতা-কর্মীদের মামলায় যেতে ভয় পেতেন। সকল ভয়-ভীতিকে অতিক্রম করে তিনি সকল আদালতে অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছেন এবং সকল কার্যক্রমে তিনি অংশ গ্রহণ করেছেন। তিনি ঝুকিপূর্ণ জেনেও জননেত্রী শেখ হাসিনা এবং নেতাকর্মীদের জন্য সাংবাদিকদের কাছে স্টেটমেন্ট দিয়েছেন।

 

২০০৪ সনের ২১ আগস্ট বঙ্গবন্ধু এ্যাভিনিউতে বাংলাদেশ আওযামী লীগের সন্ত্রাস বিরোধী সভা এবং মিছিলের কর্মসূচী ছিল। কিন্তু মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকে হত্যার উদ্দেশ্যে ও বাংলাদেশ আওয়ামী লীগকে নেতৃত্ব শূন্য করে নিশ্চিহ্ন করার জন্য গ্রেনেড হামলা করা হয়। সে দিন তিনি মঞ্চে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ১০ ফিট পিছনে ছিলেন। সে দিনের মর্মান্তিক দৃশ্য ইতিহাসের বর্বরোচিত হামলা ও লাশের সারি দেখে হতবিহবল হয়ে পড়েছিলেন। সে দিন আওয়ামী লীগ নেত্রী আই.ভি রহমান সহ ২৪ জন নেতাকর্মীকে হত্যা করা হয়। সে দিন তিনিও আহত হয়েছিলেন। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী সে দিন আল্লাহর রহমতে জীবনে রক্ষা পান কিন্তু গ্রেনেড বিস্ফোরণের বিকট শব্দে কানের শ্রবণ শক্তি ভীষণভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হয়।

 

তিনি যুদ্ধাপরাধীদের বিচার চেয়ে অনেক আন্দোলন করেছেন, শহীদ জননী জাহানারা ইমাম ছিলেন তাঁর শিক্ষক। ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটিতে শহীদ জননীর সাথে কাজ করেছেন।

 

মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে ২য় মেয়াদে সরকার গঠনের ৫০ দিনের মাথায় তিনি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী থাকাকালে একটি হৃদয় বিধারক ঘটনা ঘটেছিল তৎকালীন বি.ডি.আর হত্যাকান্ড। জীবনের ঝুকি নিয়ে তিনি সে দিন বি.ডি. আর বিদ্রোহ দমনের জন্য মাননীয় প্রধানমন্ত্রী সহযোগিতায় চেষ্টা করেছিলেন। ছুটে যান পিলথানা বি.ডি.আর ক্যাম্পে। কিন্তু তিনি সেখানে পৌঁছার আগেই হৃদয় বিদারক ঘটনা ঘটে গিয়েছিল। পরের দিন ২/৩ শত বি.ডি.আর ফোর্স তাঁর নির্দেশে হাসপাতালের ভিতরে অবস্থান নেয়। তাদের অবস্থানের পর লাশগুলো উদ্ধার করা হয় ও গুলি, অস্রশস্ত্র বিভিন্ন জায়গা থেকে উদ্ধার করা হয়।

 

তিনি তাঁর জীবনকে আওয়ামী লীগের জন্য, দেশের মানুষের কল্যাণে উৎসর্গ করেছেন। যত দিন বেঁচে থাকবেন তত দিন আওয়ামী লীগের রাজনীতির সাথে জড়িত থাকবেন। বঙ্গবন্ধুর আদর্শ বাস্তবায়নে তাঁরই সুযোগ্য কন্যা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আস্তা রেখে কাজ করে যাবেন।

 

বঙ্গবন্ধুর আদর্শ বাস্তবায়নে শেখ হাসিনার নেতৃত্বের প্রতি আস্থাশীল এডভোকেট সাহারা খাতুন (এমপি)। আন্দোলন সংগ্রাম করতে গিয়ে তিনি বহুবার নির্যাতিত হয়েছেন, জেল খেটেছেন, তারপরও তিনি কখনো থেমে থাকেননি। বঙ্গবন্ধুর আদর্শ প্রতিষ্ঠায় কাজ করে গেছেন এবং তিনি আজীবন কাজ করে যাওয়ার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।

 

আওয়ামী লীগের জন্যই তিনি তাঁর এই ক্ষুদ্র জীবনটি উৎসর্গ করে যাচ্ছেন। মুজিব আদর্শের একজন নির্ভীক সৈনিক এডভোকেট সাহারা খাতুন।

 

 


★ ওয়ান ইলেভেনের দুঃসময়ে …


১৬ জুলাই ২০০৭, ভোর রাতে ধানমন্ডি পাঁচ নম্বর ‘সুধা সদন’ ঘিরে ফেলল আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। কদিন ধরেই ফিসফাস কথাবার্তা ছিল, বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের সভা নেত্রী শেখ হাসিনা গ্রেপ্তার হতে পারেন।

 

আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সুধাসদন ঘিরে ফেলে ধাক্কা ধাক্কি শুরু করল। বাসার লোকরা দরজা খুলে দিল। যৌথবাহিনী ঘরে ঘরে তল্লাশি শুরু করল। শেখ হাসিনা এগিয়ে এসে জিজ্ঞেস করলেন ‘তোমাদের প্রধান কে?’ একজন সেনা কর্মকর্তা এগিয়ে এলেন। শেখ হাসিনা শান্ত, স্থির। বললেন, ‘ তোমার যা দরকার আমাকে বলো, উচ্ছৃংখলতা করো না।’ এরপর শুরু হলো তল্লাশি। লাইব্রেরি, কম্পিউটার কিছুই বাদ গেলো না।

 

শেখ হাসিনা বললেন, আমি কয়েকটা ফোন করব। সেনা কর্মকর্তা সম্মতি দিল। ওই ভোরে শেখ হাসিনা তিনটি ফোন করেছিলেন। প্রথম ফোনটি যাকে করেছিলেন, তাঁর নাম সাহারা খাতুন। একটা কল যেতেই সাহারা খাতুন ফোনটা ধরলেন। অপর প্রান্ত থেকে প্রিয় নেত্রী জানালেন যে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। আর এক মুহুর্ত দেরি করলেন না, ওই ভোররাতে ছুটে এলেন। শেখ হাসিনাকে গ্রেপ্তার করে নেওয়া গাড়ির বহরের পিছনে পিছনে ছুটলেন। সকালে শেখ হাসিনাকে আদালতে তোলা হলো।

 

অ্যাডভোকেট সাহারা খাতুন শেখ হাসিনার কাছ থেকে ওকালত নামায় স্বাক্ষর নিলেন। জামিনের আবেদনও করলেন। তারপর চলল আইনি লড়াই। এই আইনি লড়াইয়ে অনেক খ্যাতিমান আইনজীবী ছিলেন, যাদের একসূত্রে গ্রথিত করেন সাহারা খাতুন। তিনি ছিলেন সবার যোগসূত্র। তখন আওয়ামী লীগের অনেক নেতাও সাহারা খাতুনের সঙ্গে যোগাযোগ করতেন আবার অনেকেই গ্রেফতার আতংকে এড়িয়ে চলেছেন। নেত্রীর খোঁজ খবর নিতেন। শেখ হাসিনা তাঁর মাধ্যমেই দলের করণীয় সম্পর্কে বার্তা দিতেন।

 

দলে অনাদরে, অবহেলায় থাকা সাহারা খাতুন এই সময়টাই যেন সবচেয়ে বেস্ত সময় কাটিয়েছেন। বঙ্গবন্ধুর আদর্শ হৃদয়ে আঁকড়ে রেখেছেন। পাওয়া না পাওয়া নিয়ে খুব একটা ভাবেন না। ভাবেনও নি কখনো। রাজনীতি করেছেন আদর্শের জন্য এবং জনগণের কল্যাণের জন্য, পেয়েছেন নেত্রীর ভালোবাসা। প্রাপ্তি-অপ্রাপ্তির, চাওয়া-পাওয়ার হিসেব নিয়ে বসেননি কখনো। কখনো ‘মুল্যায়ন’ হলো না ভেবে হা-হুতাশও করেননি।

 

সাহারা খাতুন আলোচনায় আসেন ৮০র দশকে স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলনে লড়াকু সৈনিক হিসেবে। হরতাল, অবরোধে সবার সামনে থাকতেন। পিকেটিং করতে যেয়ে পুলিশের মার খেতেন। ৯১ এর উপ নির্বাচনে ষড়যন্ত্র করে খুব অল্প ভোটের বেবধানে তাকে পরাজিত করা হয়েছে, মনোনয়ন পাননি ৯৬ এবং ২০০১ এর নির্বাচনেও। কিন্তু তার মিষ্টি হাসিটা কখনো ম্লান হয়নি। কাজ করে গেছেন দলের জন্য। নেত্রীর কথা অত্যন্ত বিশ্বস্ততার সাথে আদর্শিক দায়িত্তে পালন করেছেন।

 

২০০৭ সালে ওয়ান ইলেভেনের আগেও উত্তাল আন্দোলনে সাহারা ছিলেন বীরের মতোই। পুলিশের লাঠি পেটা, নির্যাতন কোনো কিছুই তাঁকে বঙ্গবন্ধুর আদর্শ থেকে টলাতে পারেনি। ওয়ান ইলেভেনের পর সাহারা খাতুন তাঁর জীবনে প্রথম ‘বসন্তকাল’ দেখেন। ২০০৮ এর নির্বাচনে তিনি অংশগ্রহন করে তিনি লক্ষাধিক ভোটের বেবধানে জয়ী হন। তাঁকে করা হয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। সৎ, একনিষ্ঠ একজন রাজনৈতিক কর্মীর এরচেয়ে বড় প্রাপ্তি আর কি হতে পারে?

 

সাহারা খাতুন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে কতটা সফল, কিংবা ব্যর্থ-তার বিচার করবে ইতিহাস। পুলিশ বাহিনির প্রায় সিংহভাগ সফলতা এবং উন্নয়নের সময় ছিল এডভোকেট সাহারা খাতুনের মন্ত্রিত্বকালীন অবস্থায়। পূর্ব এশিয়ার মধ্যে বাংলাদেশে সর্ব প্রথম মহিলা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এডভোকেট সাহারা খাতুন, এবং সুশাসনের মাধ্যমে দেশে শান্তি প্রতিষ্ঠার অন্যতম নায়ক এডভোকেট সাহারা খাতুন। পুলিশ বাহিনির যে অর্জন রয়েছে ইতিহাসের পাতায় সেই উন্নয়নের কথা স্বর্ণাক্ষরে লেখা থাকবে।